নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৪ সালের ৫ ই আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর গুলোতে এখনো রয়ে গেছে ফ্যাসিবাদের দোসর এবং বিভিন্ন দপ্তরে বসে ষড়যন্ত্রের নীল নকশা প্রণয়ন করছে স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে, ২০২৫ সালের ৫ই আগস্ট স্বৈরাচারের পতনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের নীল নকশা প্রণয়ন করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সমর্থিত বেশ কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সেই ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যায়, সেই ষড়যন্ত্রকারী দলের একজন সক্রিয় সদস্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উপ পরিচালক ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শরিফুল আলম রিমন।
শরিফুল আলম রিমন বরগুনা জেলার বরগুনা সদর পৌরসভার আলমবাগ গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ শামসুল আলমের মেজ পুত্র, ছাত্র জীবনে ছিলেন নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য, তিনি ঢাকা কলেজে অধ্যানরত অবস্থায় ২০১২/২০১৪ সালের
ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের পল্লব, সুইম কমিটির তিন নম্বর সহ-সভাপতি ছিলেন, ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার পর নেমে পড়েন বিভিন্ন চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি সহ নানা অপরাধের সঙ্গে, তৎকালীন ঢাকা নিউ মার্কেট ঢাকা কলেজের আশেপাশের সমস্ত ফুটপাতের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতেন রিমনের অর্থের লোভের প্রবণতা ছিল তার ভিতরে অনেক, সব সময় মাদক নারী নিয়ে ডুবে থাকতেন।
অভিযোগ আছে, ২০১৫ সালে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নবম গ্রেডে সহকারী পরিচালক নিয়োগ পরীক্ষায় ছাত্রলীগের প্রভাব খাটিয়ে প্রক্সি দিয়ে (নিজের পরিবর্তে অন্য আর একজনকে দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ান) সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত ভাবে তিনি ছাত্রলীগের কোটায় নিয়োগ পান, এবং তারই নিয়োগের পিছে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন আওয়ামী লীগের বরগুনার সাবেক সংসদ সদস্য শম্ভু ও তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ।
চাকরিতে যোগদানের পর পরই জড়িয়ে পড়েন সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ঘুষ বাণিজ্য নানা অপকর্ম দুর্নীতিতে।
অভিযোগ আছে, তিনি সরকারি বিপুল পরিমাণ তেল আত্মসাৎ করেন, এবং তার দপ্তরে বিভিন্ন বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য ও বিএনপি জামাতের ট্যাগ দিয়ে বহু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি ও বরখাস্তের সুপারিশ হতো তার আদেশে, এবং এই অবৈধ অর্থ দিয়ে বরগুনা সদর আশেপাশের বেশ কয়েকটি উপজেলা বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন, রাজধানী ঢাকার রামপুরা বনশ্রী ও উত্তরায় একাধিক ফ্লাট ও গাড়ি ক্রয় করেছেন অবৈধ অর্থে।
বিলাসী জীবন যাপন করেন স্ত্রীকেও ছাত্রলীগের প্রভাবে একই দপ্তরে চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন, এলাকায় দানশীল হিসেবে ব্যাপক সুনাম রয়েছে, অভিযোগ আছে তিনি শুধু সরকারি দপ্তরে লুটপাট করেননি নানা অপকর্ম চাঁদাবাজি দখলবাজি করেছেন নিজ জেলা বরগুনাতেও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য একাধিক মামলার আসামি মশিউর রহমান শিহাবের দুর্ধর্ষ ক্যাডার হিসেবেও ব্যাপক পরিচিত রয়েছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য উপজেলা ইউনিয়ন নির্বাচনে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতেন, ২০১৪ ২০১৮ ও ২০২৪ সালের শেখ হাসিনার অবৈধ নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
ঘুষ দুর্নীতির অবৈধ অর্থ দিয়ে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে নানা দেশে ঘুরে বেড়ান ঢাকার বাহিরে ঘুরতে গেলে অবৈধ অর্থে ফাইভ স্টার হোটেলে রাত্রে যাপন করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিউবোর একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, ২০২৪ সালের জনতার আন্দোলন দমাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছিলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও ক্যাসিনো কান্ডের হোতা সম্রাটের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন, ছাত্রলীগ করার সুবাদে আওয়ামী লীগের শীর্ষ এমপি মন্ত্রীদের সাথেও ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
৫ ই আগস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতন হলেও উনার মত প্রভাবশালী ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডার এখনো কিভাবে বহাল তবিয়তে? প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় করে ভোল পাল্টিয়ে তিনি রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে, ওনার মতো ফ্যাসিবাদের দোসরকে দ্রুত বরখাস্ত করে গ্রেফতার করা হোক।
আরো অভিযোগ আছে, বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ভারত থেকে আসা বিভিন্ন গোপন দিকনির্দেশনা পালন করছেন, যুক্ত আছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় আওয়ামী লীগের একাধিক গ্রুপে।
বাংলাদেশ সচিবালয় নিয়ে ইতিমধ্যে কয়েকবার বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ, আর শরিফুল আলম রিমনের মত ফ্যাসিবাদের দোসর সচিবালয়ের বিদ্যুৎ ভবনে নবম তলায় বহাল তবিয়তে কর্মরত আছেন এবং সরকার পতনের বিভিন্ন ষড়যন্ত্র প্রণয়ন করছেন।
দেশের বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের বেশ কয়েকজন নেতারা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে এই ফ্যাসিবাদের দোসরদের বহাল রেখে কখনো একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় জাতীয় নির্বাচনের আগেই এদেরকে সরিয়ে দিতে হবে ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরিফুল আলম রিমন সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।
শরিফুল আলম রিমন ও তার স্ত্রীর নানা অপকর্ম অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে দ্বিতীয় পর্ব আসছে।